Header Ads Widget

Responsive Advertisement

অপারেশন মিন্সমিট: একটি মৃতদেহ যেভাবে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল

 


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি অবিশ্বাস্য সত্য ঘটনা হলো ‘অপারেশন মিন্সমিট’। ১৯৪৩ সালে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা নাৎসি বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার জন্য একটি মৃতদেহকে ব্যবহার করে এক অদ্ভুত পরিকল্পনা সাজায়।

গল্পটি শুরু হয় গ্লিন্ডউয়ার মাইকেল নামক এক যাযাবর ব্যক্তিকে দিয়ে, যে বিষপানে মারা গিয়েছিল। ব্রিটিশ গোয়েন্দারা তার মৃতদেহ সংগ্রহ করে তাকে একটি কাল্পনিক পরিচয় দেয়— ‘ক্যাপ্টেন উইলিয়াম মার্টিন’। তাকে পরানো হয় রাজকীয় নৌবাহিনীর ইউনিফর্ম এবং তার পকেটে রাখা হয় প্রেমিকার চিঠি, থিয়েটারের টিকিট এবং কিছু বিল, যাতে তাকে একজন জীবন্ত মানুষ বলে মনে হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার কবজিতে বেঁধে দেওয়া একটি ব্রিফকেস, যাতে ছিল ব্রিটিশ জেনারেলদের কিছু জাল চিঠি। সেই চিঠিতে লেখা ছিল যে, মিত্রবাহিনী গ্রিসের ওপর দিয়ে আক্রমণ করতে যাচ্ছে, যদিও আসল পরিকল্পনা ছিল ইতালির সিসিলি আক্রমণ করা।

স্পেনের উপকূলে মৃতদেহটি ছেড়ে দেওয়া হয়। জোয়ারের তোড়ে দেহটি তীরে ভিড়লে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ তা উদ্ধার করে এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী জার্মানিকে সেই জাল নথির তথ্য পৌঁছে দেয়। অ্যাডলফ হিটলার সেই মিথ্যা তথ্য বিশ্বাস করে তার বিশাল সৈন্যবাহিনী গ্রিসে সরিয়ে নেন। ফলে যখন মিত্রবাহিনী সিসিলি আক্রমণ করে, সেখানে জার্মান প্রতিরোধ ছিল একেবারেই দুর্বল।

একটি মৃতদেহ এবং কিছু জাল কাগজ এভাবে হাজার হাজার সৈনিকের প্রাণ বাঁচিয়ে দিয়েছিল এবং যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ইতিহাসের পাতায় এটি আজও ‘সবচেয়ে সফল প্রতারণা’ হিসেবে পরিচিত।

Post a Comment

0 Comments